প্রতি বছর শীতের শুরু থেকেই দেশি-বিদেশি অসংখ্য অতিথি পাখি আশ্রয় নেয় রক্তদহ বিলে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পাখির কোলাহলে মুখরিত থাকে পুরো এলাকা। এসব দৃশ্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। শুধু শীতকালেই নয়, বর্তমানে সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে এখানে।
সরকারি ছুটির দিন, বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার, রক্তদহ বিল এলাকায় উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। আশপাশের জেলাসহ রাজশাহী, বগুড়া, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বিভিন্ন স্থান থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসেন অসংখ্য মানুষ।
নৌকা ভ্রমণকারীদের হাসিখুশি মুখ আর চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মিলে বিলের পরিবেশে সৃষ্টি করে এক স্বপ্নীল অনুভূতি। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এই দিনগুলোতে জমজমাট ব্যবসা করেন চা-নাস্তা, ঝালমুড়ি, স্থানীয় খাবার ও নৌকা ভ্রমণের টিকিট বিক্রি করে।
বর্তমান পর্যটক সংখ্যা ও নিরাপত্তার স্বার্থে রাণীনগর থানা পুলিশ ফোর্স নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে এলাকাটিতে। শুক্রবার ও ছুটির দিনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় যাতে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াতে পারেন। পুলিশের উপস্থিতি পর্যটকদের আস্থাও বাড়িয়ে দিয়েছে।
একসময় রক্তদহ বিল ছিল কেবল স্থানীয় কৃষক ও জেলেদের জীবিকার অংশ। কিন্তু এখন এটি রূপ নিয়েছে পর্যটনের এক অনন্য কেন্দ্রবিন্দুতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় দিন দিন জনপ্রিয়তা আরও বেড়েই চলেছে। প্রকৃতি প্রেমী, আলোকচিত্রী ও ব্লগারদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে এ বিল।
রক্তদহ বিলের সৌন্দর্য সংরক্ষণ ও পর্যটন সুযোগ বৃদ্ধি করতে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ রাকিবুল হাসান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বিলের সার্বিক উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা, অবকাঠামো নির্মাণ এবং পর্যটকদের জন্য আরও সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত উদ্যোগ নিচ্ছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় রক্তদহ বিলকে একটি টেকসই পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আব্দুল্লাহ আল মাহীদ